আজানের জবাব কিভাবে দিবেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আহবান করার জন্য আযান দেওয়া হয়। এই শব্দটির অর্থ হচ্ছে ঘোষণা। ইসলামের অন্যতম এই নির্দেশন আজানের জবাব কিভাবে দিবেন সেটা সম্পর্কে যারা না জানেন তার আজকে জেনে নিন। কারণ আযানের জবাব প্রদান করা আমাদের প্রিয় নবী রাসুল (সা.) এর সুন্নত।

তিনি বলেছেন, যখন তোমরা আযান শুনবে এর জবাবে মুয়াজ্জিন (যিনি আযান দেন) এর মত তোমরা বলবে। (বুখারি: ৬১১)

আজানের জবাব কিভাবে দিবেন

এর মানে আমরা বসে গিয়েছে যে যখন আযান দেয়া হবে তখন সেটির জবাব দেয়ার পদ্ধতি হলো মোয়াজ্জিনের প্রতিটি বাক্য বলে শেষ করার পরে শ্রোতাও সেই একই বাক্যটি নিজেও বলবে। তবে এক্ষেত্রে আরো কিছু বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।

আযান দেওয়ার সময় মোয়াজ্জিন যখন হাইয়া আলাস সালাহ এবং হাইয়া আলাল ফালাহ বলবেন তখন শ্রোতাকে এর জবাবে বলতে হবে লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। আলেমদের মতে এটি আজানের জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া। আবার কোন কোন বর্ণনায় এই দুটি বাক্যের সময় মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (কিতাবুদ দোয়া, তারাবানি: ৪৫৮)

যেকোনো ধরনের পরিস্থিতিতে আজানের জবাব দেওয়া বাঞ্ছনীয়?

না সর্বাবস্থায় এটি দেওয়া জরুরি নয়। যে সকল নারী কিংবা পুরুষ নামাজ আদায়রত অবস্থায় রয়েছেন, পানাহারত অবস্থায় রয়েছেন, ইস্তেঞ্জা করছেন, স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের লিপ্ত হয়েছেন এবং মহিলাদের মাসিক চলাকালীন সময়েও আজানের জবাব দেওয়া যাবেনা।

এ ব্যাপারে আলমগণ মত প্রকাশ করেছেন যে যদি কোন নারী কিংবা পুরুষ উক্ত কাজ গুলি থেকে তখনই অবসর হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। আর যারা কোরআন তেলোয়াতরত অবস্থায় রয়েছেন তারা সাময়িক সময়ের জন্য কুরআন তেলাওয়াত বিরতি দিয়ে আজানের জবাব দিতে পারবেন। (আদ্দুররুল মুখতার: ১/৩৯৭)

তবে আজানের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি আরো একটি সুন্নত এবাদত হচ্ছে চুপ থাকা। উত্তর সময় খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন না হলে সাধারণ কিংবা দ্বীনি অথবা দুনিয়াবী কথা বার্তা লিপ্ত না হয় উত্তম। আর যদি সেসময় কোনো সভা, সেমিমিনার কিংবা অনুষ্ঠান চলে তাহলে সেগুলো সাময়িক সময়ের জন্য অবশ্যই বিরতি দিতে হবে। এমনকি ইসলামিক আলোচনা অথবা ওয়াজ মাহফিল চলাকালেও সেটি কিছুক্ষণের জন্য বিরতি দিয়ে সবাইকে আযানের অযোগ্য জবাব দেওয়া উত্তম। (ফাতহুল কাদির: ১/২৪৮, রদ্দুল মুহতার: ১ / ৩৯৯, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ৫ / ৪২৭)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আজানের জবাব কিভাবে দিবেন

আপডেট সময় : ০৮:২৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আহবান করার জন্য আযান দেওয়া হয়। এই শব্দটির অর্থ হচ্ছে ঘোষণা। ইসলামের অন্যতম এই নির্দেশন আজানের জবাব কিভাবে দিবেন সেটা সম্পর্কে যারা না জানেন তার আজকে জেনে নিন। কারণ আযানের জবাব প্রদান করা আমাদের প্রিয় নবী রাসুল (সা.) এর সুন্নত।

তিনি বলেছেন, যখন তোমরা আযান শুনবে এর জবাবে মুয়াজ্জিন (যিনি আযান দেন) এর মত তোমরা বলবে। (বুখারি: ৬১১)

আজানের জবাব কিভাবে দিবেন

এর মানে আমরা বসে গিয়েছে যে যখন আযান দেয়া হবে তখন সেটির জবাব দেয়ার পদ্ধতি হলো মোয়াজ্জিনের প্রতিটি বাক্য বলে শেষ করার পরে শ্রোতাও সেই একই বাক্যটি নিজেও বলবে। তবে এক্ষেত্রে আরো কিছু বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।

আযান দেওয়ার সময় মোয়াজ্জিন যখন হাইয়া আলাস সালাহ এবং হাইয়া আলাল ফালাহ বলবেন তখন শ্রোতাকে এর জবাবে বলতে হবে লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। আলেমদের মতে এটি আজানের জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া। আবার কোন কোন বর্ণনায় এই দুটি বাক্যের সময় মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (কিতাবুদ দোয়া, তারাবানি: ৪৫৮)

যেকোনো ধরনের পরিস্থিতিতে আজানের জবাব দেওয়া বাঞ্ছনীয়?

না সর্বাবস্থায় এটি দেওয়া জরুরি নয়। যে সকল নারী কিংবা পুরুষ নামাজ আদায়রত অবস্থায় রয়েছেন, পানাহারত অবস্থায় রয়েছেন, ইস্তেঞ্জা করছেন, স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের লিপ্ত হয়েছেন এবং মহিলাদের মাসিক চলাকালীন সময়েও আজানের জবাব দেওয়া যাবেনা।

এ ব্যাপারে আলমগণ মত প্রকাশ করেছেন যে যদি কোন নারী কিংবা পুরুষ উক্ত কাজ গুলি থেকে তখনই অবসর হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। আর যারা কোরআন তেলোয়াতরত অবস্থায় রয়েছেন তারা সাময়িক সময়ের জন্য কুরআন তেলাওয়াত বিরতি দিয়ে আজানের জবাব দিতে পারবেন। (আদ্দুররুল মুখতার: ১/৩৯৭)

তবে আজানের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি আরো একটি সুন্নত এবাদত হচ্ছে চুপ থাকা। উত্তর সময় খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন না হলে সাধারণ কিংবা দ্বীনি অথবা দুনিয়াবী কথা বার্তা লিপ্ত না হয় উত্তম। আর যদি সেসময় কোনো সভা, সেমিমিনার কিংবা অনুষ্ঠান চলে তাহলে সেগুলো সাময়িক সময়ের জন্য অবশ্যই বিরতি দিতে হবে। এমনকি ইসলামিক আলোচনা অথবা ওয়াজ মাহফিল চলাকালেও সেটি কিছুক্ষণের জন্য বিরতি দিয়ে সবাইকে আযানের অযোগ্য জবাব দেওয়া উত্তম। (ফাতহুল কাদির: ১/২৪৮, রদ্দুল মুহতার: ১ / ৩৯৯, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ৫ / ৪২৭)